ঋণ নিতে এসে ম্যানেজারের হামলার শিকার স্বামী-স্ত্রী
Advertisement
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ব্যাংকে ঋণ নিতে এসে একটি এনজিওর ম্যানেজারের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক দম্পতি। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার নবগ্রাম সরুপাই বাজারে ওই এনজিও অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা রিপন হোসেনের স্ত্রী মীম আক্তারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লোন দেওয়ার কথা বলে গত ১৪ মার্চ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বেলাল হোসাইন তাদের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেন। রোববার দুপুরে স্বামী-স্ত্রী লোন নিতে ব্যাংকে গেলে ম্যানেজার লোন দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বেলাল হোসাইন রিপন হোসেন ও তার স্ত্রী মীম আক্তারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী রিপন হোসেন বলেন, আমার আগের একটি লোনের বকেয়া ছিল ২৮ হাজার টাকা। শনিবার সেই টাকা পরিশোধ করেছি। রোববার লোন নিতে এলে ম্যানেজার লোন দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ব্যাংকের তিন-চারজন কর্মচারী মিলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে। আমরা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করব।
মীম আক্তার জানান, আমার শাশুড়ি গত ছয় বছর ধরে এই ব্যাংক থেকে নিয়মিত লোন নেন। আমিও এখান থেকে লোন নিয়েছি। আগের ৭০ হাজার টাকার লোন পরিশোধ করার পর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নতুন লোন নেওয়ার জন্য ঈদের বাজারের টাকা মিলিয়ে আগের কিস্তির মোট ২৮ হাজার টাকা শনিবার ম্যানেজারকে দিই। তিনি রোববার লোন নিতে আসতে বলেন; কিন্তু এখন তিনি লোন দেবেন না বলে জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামীকে মারধর করেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নিলয় সাহা বলেন, আমি বাড়ি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ হট্টগোল শুনে এসে দেখি এক নারী কান্নাকাটি করছেন। পরে জানতে পারি এনজিওর ম্যানেজারের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়েছে। এলাকাবাসী মিলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও শুনেছি তারা থানায় অভিযোগ করবে।
সরুপাই এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাসার নিচেই ব্যাংকটি। দুপুরে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখি ম্যানেজার ও গ্রাহকদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। একপর্যায়ে ওই যুবক ম্যানেজারকে মারার জন্য হাতে একটি ইট তুলে নেন। তখন ম্যানেজার তাকে লাথি মারতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ব্র্যাক অফিসের শাখা ব্যবস্থাপক ও মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মকর্তা বেলাল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই পুলক কুমার মজুমদার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
