মেয়ে হত্যা মামলায় বাণিজ্য করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন বাবা
Advertisement
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার চান্দিনায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর গৃহবধূ সাবিনার লাশ পাওয়া যায় বাথরুমে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সাবিনার বাবার বিরুদ্ধে।
এদিকে হত্যার রেশ না কাটতেই মারধরে মৃত সাবিনার স্বামীর বড় বোনের প্রতিবন্ধী মেয়ে মরিয়ম (২১) মারা যান। এ হত্যা মামলায় ফেঁসে গেছেন সাবিনা হত্যার বাদী নিহতের পিতা ময়নাল হোসেন।
প্রতিবন্ধী মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনায় নিহত সাবিনার পিতা ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২১ মার্চ (শনিবার) ঈদের দিন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রতিবন্ধী মরিয়ম আক্তার একই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। পিতার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে মামার বাড়ি হোসেনপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করত তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- প্রায় দশ বছর আগে হারালদার গ্রামের ময়নাল হোসেনের মেয়ে সাবিনা আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে আবুল খায়েরের বিয়ে হয়। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সাবিনা আক্তারের মরদেহ বাথরুমে পড়ে থাকার ঘটনায় তার পিতা ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৪ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী আবুল খায়ের ও তার বড় বোন শিউলিকে (নিহত মরিয়মের মা) গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। ওই মামলার পর থেকেই বাদী ময়নাল হোসেন মেয়ে হত্যা মামলায় এলাকার বিভিন্ন মানুষকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে চলছিল। আর এসব অর্থ আদায়ে ময়নাল হোসেন তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনির হোসেন, রিপন ও মাহবুবকে ব্যবহার করতেন। ময়নাল হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রথমে তার সহযোগীদের পাঠায় এবং পরে তিনি নিজেই চূড়ান্ত লেনদেন করেন।
এই ফাঁদে ফেলে গত তিন মাসে ১২ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অন্তত ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
একই ধারাবাহিকতায় ময়নাল হোসেনের নিহত মেয়ে সাবিনার দেবর হাসানকে টার্গেট করে। ২১ মার্চ ঈদের দিন ময়নাল হোসেন একইভাবে সহযোগী মনির হোসেন, রিপন ও মাহবুবকে নিহত সাবিনার শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে হাসানকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন।
হাসানের মা (সাবিনার শাশুড়ি) কারিমা খাতুন বলেন, ঈদের দিন বিকালে ৩-৪ জন লোক এসে আমার ছোট ছেলে হাসানকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে। আমার ছেলে শ্রমিকের কাজ করে। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় হাসানকে মারধর শুরু করে। এ সময় আমি ও আমার প্রতিবন্ধী নাতনি মরিয়ম বাধা দিতে গেলে তারা মরিয়মকেও মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মৃত্যু ঘটে মরিয়মের। পরে আমরা থানায় মামলা করি, পুলিশ আমাদের মামলার প্রধান আসামি ময়নালকে আটক করে।
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, গৃহবধূ সাবিনা হত্যার পর তার পিতা ময়নাল হোসেন বিভিন্ন মানুষকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার এমন ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন ভুক্তভোগীরা। ঈদের দিন একইভাবে ময়নাল হোসেন নিহত সাবিনার দেবরের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে গেলে আরও একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে হত্যার আলামত পাওয়ায় মামলা নিয়ে ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রয়োজন। এছাড়া মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
