আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে রাতের বেলা মাওলা সরকার (৪৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক মাওলা সরকার মহেশপুর গ্রামের মৃত হাশেম সরকারের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহতের চাচাতো ভাই আবদুর রহিম সরকার বলেন, উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন মহেশপুর গ্রামের নোয়াব সরকারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম বিডিআরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারের মেম্বারি নির্বাচন ও সেচ স্কিম নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সেই দ্বন্দ্ব নিয়ে পূর্বেই একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় আদালতে দুইপক্ষের মামলা চলমান আছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ৯টার দিকে মাওলাসহ আমরা কয়েকজন মহেশপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসার পথে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আলম, নানু মেম্বার, দেলোয়ার, মোজাম্মেলসহ ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পেছন থেকে মাওলার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মাওলাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় মুরাদনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা বাজার থেকে ফেরার পথে তালগাছের পাশের ঝোপের ভেতর থেকে ৮-১০ জন লোক বের হয়ে মাওলাকে পেছন থেকে কোপাতে ও পেটাতে থাকে। আমরা চিৎকার শুরু করলে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পিলখানার ঘটনায় চাকরি হারানো খোরশেদ আলম এলাকায় এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। বিভিন্ন লোকজনের ওপর হামলা মামলার মাধ্যমে এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছেন এই খোরশেদ আলম। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এনসিপিতে যোগদান করেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের দলবল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগ দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি আবদুল কাদের জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড করা হবে।
