কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ভাইপোকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচার
Advertisement
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
শফিউল আলম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সালিশি বৈঠকে ভাতিজাকে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে হামলার শিকার হয়ে চাচা শফিউল আলম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ সময় গ্রামের আরও ১০ প্রবীণ আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার পর উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের মধ্যম আমবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের পুত্র আরাফাত শিফাত (২৬) জানান, দুদিন আগে তার প্রতিবন্ধী চাচাতো ভাই ফকিরকে (২৪) বেদম প্রহার করেছিল স্থানীয় কিশোর গ্যাং নামে পরিচিত রিংকু ও রিফাত। যার বিচারের দাবিতে সবাই এ বিষয়ে সালিশের আহ্বান জানালে ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য জুমার নামাজ শেষে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠক চলাকালে রিপন, রিংকু ও রিজভী হঠাৎ লাঠিসোটা ও লম্বা ছুরি নিয়ে আবারো ওই প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা চালাতে যায়। এ সময় ভাতিজাকে রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা কৃষক চাচা শফিউল আলমসহ ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। শফিউল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহত নুরুল আজিম (৫২) জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে নিহত শফিউল আলমের ভাতিজা প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করেন একই এলাকার রিংকু, রিফাত ও রিজভীসহ একদল কিশোর গ্যাং। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন নিয়ে শুক্রবার সালিশ বসে। ওই সালিশেই আবার কিশোর গ্যাং একত্রিত হয়ে এ হামলা করেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন বলেন, এলাকায় কিছু কিশোর তরুণদের নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে রিংকু, রিফাত ও রিজভী। এরা গত কয়েক মাসে এলাকায় অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না, আবার প্রতিবাদও করতে পারছে না। প্রতিদিন মাদক সেবন করে এলাকায় নানা অপরাধ করছে। আমি আমার বাবাকে হত্যার বিচার চাই।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার জানান, ওই বৃদ্ধের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মীরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক, এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো ঘটনা তদন্ত করে এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
