পদ্মায় হাজারী বড়শিতে আটকা পড়ল বিশাল কুমির
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো ও চরভদ্রাসন প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
পদ্মায় হাজারী বড়শিতে আটকা পড়ল বিশাল কুমির
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর কাজীবাড়ীর ঘাট নামক জলমহাল এলাকায় হাজারী বড়শিতে আটকা পড়েছে প্রায় ৭ ফুট লম্বাকৃতির একটি মিঠাপানির কুমির।
সোমবার ভোর ৬টায় জেলেদের হাজারী বড়শিতে জড়িয়ে কুমিরটি আটকে পড়ে। পরে পাঁচজন জেলে জোর চেষ্টা চালিয়ে মাঝ পদ্মা নদী থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে ডাঙায় আনেন।
পরবর্তীতে কুমিরটি পদ্মাপারের অল্প পানিতে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পদ্মাপারে উৎসুক জনতার ভিড় লেগেই আছে।
কুমির আটকের খবর পেয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলে করিম ডিউক ও চরভদ্রাসন থানার এসআই কাজী রিপন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মাপারে অবস্থান করে কুমিরটিকে নিরাপদ হেফাজতে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলা বন কর্মকর্তা ফজলে করিম ডিউক জানান, আটকা কুমিরটিকে পদ্মা পারে অল্প পানিতে বাঁশের খুঁটি পুতে বেঁধে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কুমিরটি নিরাপদ ও সুস্থ আছে। খুলনা থেকে বন্যাপ্রাণী টিম এলে কুমিরটিকে পানি থেকে তুলে আমরা তাদের হাতে সোপর্দ করব।
জানা যায়, উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর উক্ত ঘাটের জল সীমানায় বড় বড় বাঁশ পুতে প্রতিদিন জেলেরা হাজারী বড়শিতে মাছ ধরে থাকেন। বেশরিভাগ জেলেরা রাতভর বড়শি ফেলানোর পর ভোররাতেই বড়শি থেকে মাছ ছাড়িয়ে আনেন। এদের মধ্যে সাগর বেপারী (৪৫) নামে এক জেলে তার বড়শি থেকে মাছ ছাড়াতে গিয়ে দেখেন যে বিশাল এক কুমির হাজারী বড়শিতে আটকে রয়েছে। এ সময় তিনি চিৎকার করে অন্য জেলেদের একত্রিত করেন। পাঁচজন জেলে মিলে বিশেষ কৌশলে কুমিরটির ঘাড়ে মাজায় ও মাথায় বেঁধে ফেলেন। পরবর্তীতে কুমিরটিকে পদ্মা নদীর বড় নৌকার সঙ্গে বেঁধে ঘাটপারে আনা হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
কুমির আটককারী জেলে সাগর বেপারী জানান, কুমিরটি তার হাজারী বড়শিতে আটকের পর প্রায় ১৬ হাজার টাকার বড়শি নষ্ট হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি মিঠা পানির বিরল প্রজাতির কুমির, যা বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাণীটি প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় দ্রুত তাকে তার নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল ও পরিবেশপ্রেমীরা কুমিরটিকে পুনরায় নদীতে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এ ধরনের দুর্লভ প্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যাবে।
