লেবাননে বোমা হামলায় নিহত দিপালীর লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি
Advertisement
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
লেবাননে বোমা হামলায় নিহত দিপালীর লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার লেবানন প্রবাসী দিপালী আক্তার (৩৪) ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার এক মাস পর শুক্রবার সকালে তার লাশ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে।
দিপালীর লাশ বাড়িতে আনার পর উক্ত পরিবারে শোকের মাতম চলছে। লাশ দেখেই আহাজারি শুরু করেন তার স্বজনরা।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ইসরাইলি ভয়াবহ বোমা হামলায় দিপালী আক্তার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিহত হন।
নিহত দিপালী আক্তার উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় নিহতের গ্রামের বাড়ি মুন্সিরচর বাজারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উক্ত গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার জানাজায় অংশ নেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন, ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী, ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ হাজার হাজার জনতা।
এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম নিহতের পিতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং সব প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায় নিহত দিপালী আক্তারের লাশ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। পরে সেখান থেকে শুক্রবার সকালে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে।
নিহত দিপালীর পরিবারে দুই ভাই, তিন বোন ও বৃদ্ধ পিতা রয়েছেন। বোনদের মধ্যে দিপালী আক্তার ছিলেন মেজো। দিপালীর মা রোজিনা খাতুন পাঁচ বছর আগে বজ্রপাতে মারা যান। এরপর থেকে দিপালী আক্তার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে নিজ পরিবারের ব্যয়ভার মিটিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দৈন্যতার কারণে দিপালী আক্তার বিয়েও করেননি।
আরও জানা যায়, দিপালী আক্তার গত পাঁচ বছর ধরে লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে চাকরি করছিলেন। গত ৮ এপ্রিল ওই নারী তার মালিকের (কফিলের) পরিবারের সঙ্গে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বৈরুতে ভয়াবহ ইসরাইলি এয়ার স্ট্রাইক হামলা হয়। এ হামলায় ওই নারীসহ কফিলের পরিবারের সাত সদস্য নিহত হন। পরে নিহত দিপালীর লাশ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।
সেখান থেকে ফরিদপুর ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নিজ খরচে দিপালী আক্তারের লাশ বাড়িতে পৌঁছায়।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী বলেন, প্রায় এক মাস আগে লেবাননে ভয়াবহ বোমা হামলায় দিপালীর আক্তারের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা সব সময় পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। দিপালীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। আমরা লাশের পরিবহণ খরচও বহন করেছি। নিহতের পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
নিহত দিপালীর বৃদ্ধ পিতা শেখ মোফাজ্জল (৭০) বলেন, সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তবু তার লাশটা তো দেখতে পেলাম এটুকুই সান্ত্বনা।
দিপালী আক্তারের আরেক বোন লাইজু আক্তার আহাজারি করে বলেন, আপায় আমাগো খাওয়াতে পড়াতে যাইয়্যা জীবন দিয়ে দিল। এখন শুধু তার স্মৃতিটুকু লইয়্যা বাইচ্যা থাকন লাগব। আপনারা আমার বইনের লাইগ্যা দোয়া কইরেন।
