Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

হামের পর ডেঙ্গু, মারা গেল দেড় বছরের সেই শিশু

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

হামের পর ডেঙ্গু, মারা গেল দেড় বছরের সেই শিশু

শিশুর পিতার আহাজারি

Advertisement

উন্নত চিকিৎসার আশায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে ছুটে এসেছিলেন কৃষক জাহিদুল ইসলাম। আশা ছিল দেড় বছরের একমাত্র মেয়ে তাইবা সুস্থ হয়ে আবার তার কোলে ফিরবে; কিন্তু সব চেষ্টা মৃত্যুর নির্মম পরিণতি ঠেকাতে পারেনি।

হামের সঙ্গে লড়াই শেষে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ছোট্ট তাইবা শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে।

তাইবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল সে। তার মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে তাইবাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল সে। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন বিপদ কেটে গেছে।

কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ২৭ মে আবার জ্বর ও কাশি শুরু হলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ভর্তি করা হয় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ মে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিনই অবস্থার অবনতি হলে তাইবাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গত ৩১ মে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

চিকিৎসকদের মতে, চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল সে।

ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। কয়েক দিন পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এতে পরিবারে আবারও আশার আলো দেখা দেয়; কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ টেকেনি। ওয়ার্ডে নেওয়ার পর আবার জ্বর ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।

দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আর তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির।

মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা জাহিদুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার একটাই মেয়ে ছিল। ওকে বাঁচানোর জন্য যা যা করা দরকার ছিল, সব করেছি। ভালো চিকিৎসার আশায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে এনেছিলাম; কিন্তু আমার মেয়েকে আর বাঁচাতে পারলাম না।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর শিশুটির শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অনেক বেশি এবং প্লাটিলেট কম পাওয়া যায়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় ফল নেগেটিভও আসে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এবং অক্সিজেনের প্রয়োজন না থাকায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে যাওয়ার পর কেন আবার অবস্থার অবনতি হলো, তা স্পষ্ট নয়। পরে পুনরায় আইসিইউতে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে হাসপাতালের প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল তাইবা। বর্তমানে দু-একজন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লে তাদের জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হবে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩৯২

হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩৯২

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সেমিনার

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সেমিনার

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ডেঙ্গু রোধে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

আরও পড়ুন

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম