নোয়াখালীতে আ.লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, আহত ১৬
Advertisement
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর জের ধরে শনিবার বিকালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধরে ধরে পুলিশে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন করে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেলিমকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তখন এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দিলে স্থানীয় জনতা ও আওয়ামী লীগ এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া দেয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে শ্রমিক দল নেতা হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম চেয়ারম্যানের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কী বলব- একটা ঘটনার পর ছাত্রদল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে ঘি ঢেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাল। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
