গোসাইরহাটে ৫০ ফুট জায়গাজুড়ে গরম হয়ে গেছে মাটি
Advertisement
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে ওঠার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে সেখানে গর্ত করে পরীক্ষা করলে মাটির নিচ থেকেও তাপ বের হতে দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে তারা ওই স্থানে পানি দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালায়।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা এবিএম আবুল বাশার বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মাটির একটি নির্দিষ্ট অংশে অস্বাভাবিক তাপ অনুভব করেছি। প্রাথমিকভাবে সেখানে পানি দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে মাটি গরম হচ্ছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।
স্থানীয়দের ধারণা, ভূগর্ভস্থ কোনো গ্যাস, রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা অন্য কোনো কারণে এ ধরনের তাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তাপের উৎস ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রহস্যজনক এ ঘটনাকে ঘিরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। মাটির নিচে কী কারণে এমন তাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করছেন স্থানীয়রা।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রথমে বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকেও তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, রহস্যজনক এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
