বড় ছেলের পক্ষ নেওয়ায় মাকে হত্যা করেন মেজো ছেলে!
Advertisement
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
বৃদ্ধাকে হত্যা করায় ছেলে জনাব আলী ও নাতি আল আমিন গ্রেফতার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের সিংড়ায় বাড়ির সীমানায় টয়লেটের (পায়খানা) একটি গর্ত করা নিয়ে দুই ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বড় ছেলের পক্ষ নেওয়ায় মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫) অর্থাৎ মাকে গলাটিপে হত্যা করেন মেজো ছেলে জনাব আলী (৫৫)।
সেই টয়লেটের গর্তেই আবার মায়ের লাশ ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এর ১০ দিন পরে (৪ জুন) লাশের দুর্গন্ধ ছড়ালে সেই লাশ বস্তাবন্দি করে গভীর রাতে বাড়ির পাশের কচুরিপানার ডোবায় ফেলে দেন ছেলে জনাব আলী। আর মায়ের লাশ ডোবায় ফেলতে সহযোগিতা করেন জনাব আলীর ছেলে আল আমিন (২৫)।
মায়ের এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনাব আলী একা জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে লাশ লুকাতে সহযোগিতা করায় আল আমিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
৬ জুন বৃদ্ধের মেয়ে মর্জিনা বেগম তার মায়ের হারানো বিষয়ে সিংড়া থানায় একটি জিডি করেন। এর সূত্র ধরেই ৯ জুন ছেলের বাড়ির পাশের ডোবা থেকেই মায়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
বুধবার দুপুর ২টায় সিংড়া থানা চত্বরে পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের এসব তথ্য দেন নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে শনিবার উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের একটি গর্ত করা নিয়ে বড় ভাই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেজো ভাই জনাব আলীর কথা কাটাকাটি হয়। যৌক্তিক কারণে বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের পক্ষ নেন মা। বিষয়টি মেজো ছেলে জনাব আলী ভালোভাবে নেননি। আর এই ক্ষোভেই ২৫ মে রাত ৯টায় তার মাকে গলাটিপে হত্যা করেন মেজো ছেলে জনাব আলী। পরে নিখোঁজের ১৫ দিন পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। পরে নিহত বৃদ্ধার চার ছেলেসহ স্বজনদের থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুর আসল রহস্য বের হয়ে আসে।
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
