প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হেনেস্তার অভিযোগ
Advertisement
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলটি ঘেরাও করে। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর মান্দায় নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরার বিরুদ্ধে মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলটি ঘেরাও করে। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক।
এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, সচেতন মহল, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরা মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে সে ব্যাপারে নিষেধ করা হতো। প্রতিনিয়ত অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের বুক, পেট ও নিতম্বসহ স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হতো। এমনকি প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই আচরণ করতেন তিনি। ছাত্রীদের বলা হতো আমি তোমাদের বন্ধু, পকেটে টাকা এনেছো কিনা তা দেখতে বুক পকেটে হাত দিত। এমনকি খেলাধুলার সময় তিনি মেয়েদের ড্রেস নিজে পরিয়ে দিতেন। সুযোগ পেলেই জড়িয়ে ধরতেন ছাত্রীদের।
এ ব্যাপারে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মা নাহিদা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই প্রধান শিক্ষক যৌন হেনেস্তার মতো কাজ করে আসছেন। বাচ্চা মেয়েদের সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ করে, তাহলে ওই শিক্ষকের রুচিবোধ কেমন হবে। বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়াও নিরাপদ মনে করছি না। এর উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।
৩য় শ্রেণির আরেক ছাত্রীর মা মমেনা আক্তার বলেন, মেয়ে বাচ্চাদের আদর করে বুকে জড়িয়ে নেয়, বুকে হাত দেয়। তার কি সন্তান নেই? আবার বড় মেয়েদের খেলার ড্রেস নিজে পরিয়ে দিতেন। বাচ্চারা কি পোশাক পরতে পারে না, কেন তাদের পোশাক পরিয়ে দিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থীর মা বলেন, জোর করে আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছে। প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে আমার মেয়ে বলে, আমার সঙ্গে অনেকদিন ধরে স্যার এরকম কাজ করে আসছে। মেয়েটি ভয়ে আমাকে বলেনি। স্যারের এরকম কর্মকাণ্ডে ভয় পেয়ে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন সহকারী শিক্ষিক রয়েছে। এরমধ্যে চারজনই নারী শিক্ষক। তবে সহকারী কোনো শিক্ষকই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে যা হবে তখন দেখা যাবে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ষড়যন্ত্রমূলক এটা করতে পারে। তবে কে ষড়যন্ত্র করেছে এটার কোনো তথ্য পাচ্ছি না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে দুজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, এ বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি অভিযোগের সত্যতা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

-6a301b1209215.jpg)