নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড
Advertisement
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক অসিত কুমারকে (এসআই) প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতারের সময় ওই আসামি পালিয়ে যাওয়ায় এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার রাকিবুল হাসান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমার। এর আগে ভান্ডারপুর বাজারে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এসআই অসিত কুমার বলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় রাকিবুলকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়। ভান্ডারপুর বাজারে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও তিনি অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে প্রথম দফায় রাকিবুলকে গ্রেফতারের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার কথাও জানান এসআই অসিত কুমার। তার ভাষ্য, ‘টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি’—এমন একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে কারা বা কার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
নিজেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে অসিত কুমার বলেন, রাকিবুলকে শেষ পর্যন্ত তিনিই গ্রেফতার করেছেন। পরে তাকে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়। তবে পুলিশ সুপার এ বিষয়ে তাকে সরাসরি কোনো কারণ জানাননি বলে দাবি করেন তিনি।
বদলগাছী থানার ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমবার রাকিবুলকে গ্রেফতার করার পর তাকে ‘পাইয়া রেখে আসছে’—এমন একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে যাওয়ার পর এসআইকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পরে ওই এসআই আসামি রাকিবুলকে গ্রেফতার করেছেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার রাকিবুলকে গ্রেফতারের সময় তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম অভিযানে আসামি কীভাবে পালিয়ে গেলেন- সে বিষয়টি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার নজরে রাখা উচিত ছিল। এ কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় কোনো আলোচনা-সমালোচনার সম্পর্ক নেই। পরে ওই এসআই নিজেই রাকিবুলকে গ্রেফতার করেছেন।
তবে প্রথম অভিযানে ঠিক কী ঘটেছিল, রাকিবুল কীভাবে সেখান থেকে চলে যান এবং তাকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

