নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ৮
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ইলেকট্রিক বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ৮ শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে দুইজন নারী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের একজন অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঢাকা-পাগলা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা মডেল থানার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, কারখানার অভ্যন্তরে থাকা একটি বয়লার মেশিন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় কাটিং ও ফিনিশিং সেকশনে কর্মরত শ্রমিকরা দগ্ধ ও আহত হন। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
আহতরা হলেন- মোহাম্মদ শাহিন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), সাবিনা বেগম (৩৪), মঞ্জু মিয়া (২৮), আরফিন (২২), হৃদয় (২৭), খাদিজা (২০) এবং অপর এক শ্রমিক। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাগলা স্থল কাম-নৌ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সুমন মিয়া।
ঘটনার পরপরই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা ঢাকা-পাগলা সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময় উত্তেজিত কিছু শ্রমিক কারখানার লাইনম্যান মোমিনের ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিলন ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দুপুর ১২টার দিকে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফতুল্লা থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, বয়লারটিতে আগে থেকেই কারিগরি ত্রুটি ছিল। ত্রুটি থাকার পরও সেটি চালু রাখার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নির্ঝর নিটওয়্যার কারখানাটিতে প্রায় ৪শ শ্রমিক ও ৫০ জন স্টাফ কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
