শূন্যরেখায় ১০ দিন ধরে আটকে আছে ৫ প্রাণ
Advertisement
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার বাকশূন্য ৫ যুবক ১০ দিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন।
এদিকে বিজিবি-বিএসএফের পাহারায় দিন কাটছে ওই যুবকদের। অপরদিকে তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে তারা। সেখানে নেই কোনো পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের সুবিধাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।
এদিকে এই পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।
গত ১৪ জুন রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনসহ মোট ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি ও এলাকাবাসী। পরে তাদের আশ্রয় হয় দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে।
ঘটনার ৪ দিন পর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২ শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে বিজিবি।
গয়াটাপাড়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও এলাকাবাসীর বাধায় ব্যর্থ হয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন-যাপন করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেব না। পুশইন ঠেকাতে আমরা কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
