চোখের পলকে মসজিদ-ঘরবাড়ি-সড়ক নদীতে বিলীন
Advertisement
জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
চোখের পলকে মসজিদ-ঘরবাড়ি-সড়ক নদীতে বিলীন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকায় নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত ২৩ জুন থেকে চোখের পলকে মসজিদ, ঘরবাড়ি, সড়ক গিলে খাচ্ছে যমুনা নদী।
এতে কিছু বুঝে উঠার আগেই অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিম্নমানের কাজের কারণে বারবার ভাঙছে বাড়িঘর। কয়েক দিনের ভাঙনে ওই এলাকায় অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান।
শুধু সলিমাবাদ নয়, নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে যমুনা পাড়ের ৫ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। যমুনায় স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত আতঙ্কে থাকা নদীপাড়ের লোকজন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ইছাপাশা এলাকায় সাড়ে তিনশ মিটার এলাকায় ধলেশ্বরী নদী ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিচ্ছেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাখিল রায়হান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকার লুৎফর যমুনায় যখন ভাঙন শুরু হয় তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সঙ্গে সঙ্গেই অবগত করা হয়েছে। তারা নামেমাত্র জিওব্যাগ ফেললেও কোনো সুরাহা হয়নি। সঠিক পরিমাণে জিওব্যাগ ফেললে ভাঙনে অনেকেই বাড়িছাড়া হতো না। ভাঙনের দায়ভার পুরোটাই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নিতে হবে।
সুফিয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, ইতোপূর্বে আমাদের বাড়ি দুইবার ভেঙেছে। আবারও আমরা আতঙ্কে রয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা লাভবান হচ্ছেন। আমরা কার কাছে বললে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে তা আমার জানা নাই।
তিনি আরও বলেন, ভাঙনের ফলে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি অবস্থান নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকেই।
খালেকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি বলেন, চোখের পলকে মসজিদ, ঘরবাড়ি, সড়ক যমুনা গিলে খেল। অনেকেই ঘর থেকে পোশাক, নগদ টাকা, আসবাবপত্র বের করার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি। অন্য সময় ঘরবাড়ি ও আসবাব পত্র সরানোর সময় পেলেও এবার সবই নদীতে গেছে।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঞা বলেন, আমি একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যমুনার ভাঙনে ৫০টি ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গাছপালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করতে সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈদ উদ্দিন বলেন, সলিমাবাদ এলাকায় যমুনার মাঝখানে চর পড়েছে। এতে এদিকে ভেঙেছে। ভাঙনরোধে আমরা ব্যবস্থা নিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। এছাড়াও সলিমাবাদ এলাকায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, যমুনার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে ৯ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নদীর পাড়ের মানুষের আতঙ্ক অনেকটাই কেটে যাবে।
