Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মুয়াজ্জিন সিরাজুল

Icon

নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মুয়াজ্জিন সিরাজুল

চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মুয়াজ্জিন সিরাজুল

ফরিদপুরের নগরকান্দায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত মুয়াজ্জিন সিরাজুল ইসলাম।

উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম এক সময় সুমধুর কণ্ঠে মসজিদে আজান দিতেন। তার কণ্ঠে আজানের ধ্বনি শুনে মুসল্লিরা নামাজের জন্য মসজিদে ছুটে আসতেন। অথচ আজ সেই মানুষটি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে তার শারীরিক অবস্থা।

সিরাজুল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে মায়ের পাওয়া ছোট্ট এক টুকরো জমিতে নির্মিত একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন।

জানা যায়, মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাবা-মাকে হারান সিরাজুল। এরপর অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি, গড়ে তোলেন নিজের ছোট্ট একটি সংসার। স্ত্রী আয়েশা বেগম ও তিন বছরের একমাত্র ছেলে আসিফকে নিয়ে সুখের একটি পরিবার ছিল তার।

কিন্তু ২০২০ সালে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। এরপর থেকে যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন, দিনমজুরের কাজ করে চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে গেছেন। তবে ২০২৫ সালে রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বর্তমানে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে, হাঁটাচলায় চরম কষ্ট হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সিরাজুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকার প্রয়োজন; কিন্তু দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। অর্থাভাবে চিকিৎসা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, আর্থিক সংকটে স্বামীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তিন বছরের ছেলে আসিফকে নিয়ে। শিশুটি এখনো বুঝতে পারে না তার বাবা কতটা অসুস্থ। সে শুধু চায়, আগের মতো বাবা তাকে কোলে নিক এবং তার সঙ্গে খেলুক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিরাজুল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। জীবনের কঠিন সময়েও তিনি কারও কাছে হাত পাতেননি। কিন্তু আজ তার জীবন বাঁচানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, সিরাজুল অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। আমার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করব। তবে আমার একার পক্ষে শতভাগ সহযোগিতা করা সম্ভব না। সিরাজুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

বর্তমানে সিরাজুলের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসাই সিরাজুল ইসলামের বেঁচে থাকার একমাত্র আশা। তাই দরিদ্র অসহায় সিরাজুল এখন বাধ্য হয়ে সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। সিরাজুলের শিশুসন্তান এত অল্প বয়সে যেন এতিম হয়ে না যায়। তাই পৃথিবীতে সুস্থভাবে আরও কিছু দিন বেঁচে থাকার আকুতি তার। সুস্থ হয়ে তিনি সুমধুর কণ্ঠে মসজিদে আজান দিতে চান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম