সাগরে নিখোঁজ আল আমিন জীবিত উদ্ধার, খোঁজ নেই ৫ জনের
গলাচিপা দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
আল আমিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গভীর বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া গলাচিপার ৬ জনের মধ্যে আল আমিন নামের এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন জেলেরা। আল আমিনকে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় বুধবার বিকালে উদ্ধার করা হয়। ভেসে যাওয়া অন্য জেলেরা হয়তো বেঁচে আছেন- এমন ধারণা করছেন উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন।
তবে আল আমিনের সাথে থাকা অন্য ৫ জেলের চার দিনেও সন্ধান মেলেনি এখনো।
এদিকে আল আমিনকে উদ্ধারের পর চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিনের চিকিৎসার তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশন থেকে জনৈক দুলাল মাঝি আল আমিনের স্ত্রী মাকসুদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান যে, সাগর থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা স্পিডবোট নিয়ে চরফ্যাশন চলে যাই। সেখান থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করি।
উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার গত রোববার রাত ১০টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ জেলে নিয়ে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারের ভিতরে তিনজন ছিল তারা বের হতে পারেনি; কিন্তু আমরা মোট ৮ জন সাগরে ভেসে ছিলাম। এ সময় আমি, আক্কাস ও সাগর ট্রলার ধরে ভেসে ছিলাম; কিন্তু সবাই ট্রলার ছেড়ে দিয়ে তীরে ফেরার জন্য সাঁতার দেয়। কিছু সময় পর আমাদের তিনজনের কে কোথায় তা বলতে পারব না। আমি একটি তেলের পট পেয়ে ভেসে ছিলাম। বুধবার বিকালে ভোলার দুলাল মাঝির জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশনে নিয়ে আসেন। এছাড়া আমার আর কিছু মনে নেই।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল আমিনের বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আমরা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে চরফ্যাশন থেকে গলাচিপা নিয়ে আসি। আগে সুস্থ হোক পরে বিস্তারিত জানতে পারব।
এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন জানিয়েছেন, সাগরে ভেসে যাওয়া অন্য ৫ জেলেরা হয়তো বেঁচে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যৌথভাবে সব বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আল আমিন অন্য জেলেদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। উনার তথ্য অনুসরণ করে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরে ৫ জন জেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয় সোমবার। এরপর বুধবার বিকালে আরেক জেলে আল আমিন উদ্ধার হলেও অপর ৫ জন জেলে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টির মৃত গেদু হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।
