ভৈরবে সংঘর্ষে নিহত ২, ভাঙচুর লুটপাট দুইশ বাড়ি
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজারের নামকরণ নিয়ে ভৈরবের দুই গ্রামের সংঘর্ষে সোমবার দুজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার জেরে মঙ্গল ও বুধবার প্রতিপক্ষের প্রায় দুইশ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েকটি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা।
জানা গেছে, ভৈরবের গ্রামে বিবাদীয় বাজারটির নাম আকবরনগর। আকবরনগর গ্রামের লোকজন এ নামেই তাদের বাজারের নাম রাখতে চান। কিন্তু মিরারচরবাসী চায় দুই গ্রামের নামেই রাখতে। তবে মৌজার নাম আকবরনগর তাই এ নামটি যুক্তিযুক্ত বলে দাবি করেন আকবরনগর গ্রামবাসী। এনিয়ে গত সোমবার দুইপক্ষ সংঘর্ষে দুজন নিহতের পাশপাশি অর্ধশত আহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সোমবার মিরারচর গ্রামের মাসুদ ও হিরণ আকবরনগরবাসীর বলমের আঘাতে মারা যায়। পরে দাফন শেষ করে মিরারচরবাসী আকবরনগর গ্রামে হামলা শুরু করে। যা বুধবার পর্যন্ত চলতে থাকে। নিহতের ঘটনার পর আকবরনগর গ্রামের মানুষ পুলিশ ও মিরারচরবাসীর ভয়ে পালিয়ে যায়। এ সুযোগে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায় প্রতিপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আকবরনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটি প্রায় মানুষ শূন্য হয়ে আছে। গ্রামে কয়েকজন বৃদ্ধ ছাড়া পুরুষ নেই বললেই চলে।
বৃদ্ধ আবু তালেব বলেন, আমার চোখের সামনে তারা ভাঙচুর করে সব নিয়ে গেছে। ঘরের ফ্রিজ, টিন, হাট, থালাবাসন, চেয়ার টেবিল সবই লুট করছে তারা। তার বাড়ির সবাই ভয়ে পালিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, কমপক্ষে দুইশ ঘর ভাঙচুর হয়েছে। এমনকি আকবরনগর বাজারের কয়েকটি দোকানপাট লুট হয়েছে। অনেক বাড়িতে প্রতিপক্ষরা আগুন দিয়েছে।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, বাজারটি আমার ইউনিয়নের আকবরনগর মৌজাতে অবস্থিত। ঘটনার দ্বন্দ্ব অনেক আগে থেকে। এখন মিরারচর গ্রামের দুজন খুন হয়েছে বলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এসব করছে। যেখানে পুলিশও অসহায় সেখানে আমরা কি করব। যা হওয়ার তা হচ্ছে।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল মিয়া বলেন, বাজারের নাম নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে কয়েক বছর ধরে। পুলিশও তাদের থামাতে পারছে না।
একই ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আকবরনগর গ্রামের মানুষ পুলিশ ও প্রতিপক্ষের ভয়ে পালিয়েছে। তাই গ্রামে অরাজকতা লুটপাট ভাঙচুর করছে মিরাচরবাসী। তাদের আমরা দমন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, দুদিন পার হয়ে গেলেও এখনো নিহতের পরিবারের কেউ মামলা দিতে থানায় আসেনি। ঘটনাস্থলে দিনের বেলায় পুলিশ মোতায়েন করা আছে। প্রতিপক্ষরা রাতের বেলায় বাড়িঘর লুটপাট করছে বলে জানতে পেরেছি। সারারাত পুলিশ পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। দুটি গ্রামের মানুষই উচ্ছৃঙ্খল। তারা পুলিশের ওপর পর্যন্ত হামলা করে। পুলিশ চেষ্টা করছে অপরাধ দমন করতে।
