ভ্রমণে যাওয়াই কাল হলো সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুলের
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেট ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫৫)। পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে সিলেটে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত হয়েছেন তাদের আরেক বন্ধু আব্দুল লতিফও।
নিহত সাইফুল ইসলাম কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত সাফি উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
সিলেট ভ্রমণে যাওয়া পাঁচ বন্ধু হলেন—সাইফুল ইসলাম, কুলিয়ারচর উপজেলার গাইলকাটা এলাকার হাজী নবী হোসেনের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুক, তাতারকান্দি এলাকার ধনু মিয়ার ছেলে ও কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পূর্বগাইলকাটা এলাকার নাজমুল হকের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুজ্জামান রানা এবং গাইলকাটা এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জমরুদ মিয়া।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট রাতে কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে যান। সেখানে তিন দিন অবস্থান করে তারা রাতারগুল, জাফলংসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ভ্রমণের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেন।
ভ্রমণ শেষে শুক্রবার সকালে পাঁচ বন্ধুর মধ্যে সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও আব্দুল লতিফ ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাসে ওঠেন। তাদের গন্তব্য ছিল ভৈরব। অন্যদিকে, কামরুজ্জামান রানা ও জমরুদ মিয়া ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য আলাদাভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে রওয়ানা হন।
তিন বন্ধু বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে তাদের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত হন ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও আব্দুল লতিফ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাঈম আহমেদ বলেন, আনন্দ করতে পাঁচ বন্ধু মিলে সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে একজন বন্ধুকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো। তার মৃত্যুতে পুরো কুলিয়ারচরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল ইসলাম মুছা জানান, পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একসঙ্গে ফিরতে পারেননি। তাদের মধ্যে একজনকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো।
