দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বৃদ্ধ দম্পতির রাস্তা খুলে দিল প্রশাসন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অবশেষে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বৃদ্ধ দম্পতির রাস্তা খুলে দিল প্রশাসন। গত ৯ আগস্ট সংবাদটি যুগান্তর অনলাইনে ও পরবর্তীতে প্রিন্ট ভার্সনে গুরুত্ব সহকারে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
অবশেষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে সেই গৃহবন্দী বৃদ্ধ চাচার চলাচলের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়।
প্রভাবশালী ব্যাক্তির কাছে বসত ভিটেমাটি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় বাড়ির প্রবেশমুখে উঁচু প্রাচীর তুলে এক প্রবীণ দম্পতিকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। এতে করে প্রাত্যহিক প্রয়োজনে মই দিয়ে প্রতিবেশীর ছাদ ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হচ্ছিল তাদের। ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার নগরচর এলাকায়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিগত আট বছর ধরে অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচলকারী এ দম্পতি এভাবেই জীবনযাপন করছিল। অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার ছিল না কোনো চলাচল পথ, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ারও ছিল না স্বাভাবিক সুযোগ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে অনেকটা গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছিল সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের নগরচর ভরারী এলাকার একটি পরিবার। অবশেষে আজ সেই দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। গৃহবন্দি জীবন পরিবারের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। পরবর্তীতে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্যোগ নিয়ে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার নগরচর ভরারী মহল্লায় গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের চলাচল সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির কর্তা আনিসুর রহমান,তার স্ত্রী রাশিদা বেগম, ছেলে রাজিব ও পুত্রবধূ মিম আক্তার বসবাস করতেন। রাজিব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
পরিবারটির ভাষ্য, ঝালকাঠি সদর উপজেলার মানপয়সা গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান ১৯৯৫ সালে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় চার শতাংশ জমি ক্রয় করে বসতি গড়েন। তখন বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচলের রাস্তা ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হতে হয়।
এছাড়াও আনিসুর রহমান আরও বলেন, প্রায় আট বছর ধরে অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে। জরুরি সেবা ও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো পথও ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্ভোগের খবর সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি নজরে আসে সাভার উপজেলা প্রশাসনের। এরপর ১০ই আগস্ট সোমবার বিকালে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগ নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবারটির চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। তাদের সহযোগিতা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সংকটের একটি কার্যকর সমাধানের পথ বের হয়। প্রায় আট বছর ধরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়রাও প্রশাসনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের একটি ছোট পরিবারের সংকট কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের নজরে এসে দ্রুত সমাধানের পথে গেল,নগরচর ভরারীর এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আজ সব কষ্টের অবসান হওয়ায় এই পরিবারটি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

