Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

১৮ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

Icon

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

১৮ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর বেলাবোর সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ শিক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেনি। 

সোমবার (১০ আগস্ট) ফলাফল ঘোষণার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষকদের গাফিলতি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জানা যায়, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসাটি পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় সাতজন মেয়ে ও নয়জন ছেলে অংশ নিয়েছে। তাদের কেউই পাশ করতে পারেনি। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২০০ জন। তবে নবম, দশম শ্রেণি ও প্রাথমিক শাখা মিলিয়ে উপস্থিত রয়েছে মাত্র ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে একটি কক্ষেই দুই শ্রেণির পাঠদান করতে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১০টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও বেশ কয়েকটি কক্ষ জরাজীর্ণ। কোনো কোনো কক্ষে ভাঙাচোরা টিনের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়ে কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি।

ফেল করা শিক্ষার্থী সিয়ামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, এই মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষক পড়ালেখা করান না। শিক্ষকরা গল্প করেন, যার যার মতো চলে যান। আমার এমনিতেই অর্থসংকট। গত বছর আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, সে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। এ বছর আবার পরীক্ষা দিয়েছে, এবারও ফেল করেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, তারা আমাদের কথা গুরুত্ব দেন না। আমরা এর একটা পরিবর্তন চাই। প্রায় ২০ বছর ধরে মাদ্রাসাটির এই অবস্থা।

মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী তৌহিদ বলেন, আমি ২০০৭ সালে এই মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছি। তখন খুব জমজমাট ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, ফলাফলের দিক দিয়েও খারাপ, ছাত্রছাত্রীও নেই। প্রতি ক্লাসে একজন-দুজন পাওয়া যায়। স্যাররা বসে থাকেন, আড্ডা দেন—এই হচ্ছে মাদ্রাসার অবস্থা। পরিচালনাও ঠিক নেই। সবাই ফেল করেছে। মাদ্রাসা কমিটির গাফিলতি আছে, শিক্ষকদেরও গাফিলতি আছে। ১৬ জন পরীক্ষা দিয়েছে, একজনও পাশ করেনি, অথচ শিক্ষকই আছেন ১৮ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌফাজ্জল হোসেন বলেন, একটা মাদ্রাসায় যদি ১৬ জনের মধ্যে ১৬ জনই ফেল করে, তাহলে এটা লজ্জার বিষয়। শিক্ষক ১৮ জন থাকতে ১৬ জন শিক্ষার্থী কীভাবে ফেল করে? 

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি এই ফলাফলে নিজেই হতভম্ব। আমার বলার মতো ভাষা নেই। আসন্ন ২০২৭ সালের পরীক্ষায় আমি একটা চমক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। আর যারা ফেল করেছে, কী কারণে ফেল করেছে, তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভেতরে কী সমস্যা, আমি দেখব। আর সব শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ধস নামার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, আমি ক্লাস কীভাবে নেব, আমার তো শ্রেণিকক্ষই ঠিক নেই। ৪০ বছরের প্রতিষ্ঠানে সরকারের কোনো ছোঁয়া নেই। আমার ছাত্র রিকশা চালিয়ে লেখাপড়া করে। আমার মাদ্রাসার আধুনিকায়ন হয়নি। ক্লাস করানোর পরিবেশ নেই। দুইটা রুম দিয়ে আমার নয়টা ক্লাস চলে। আগামী বছর আমি ১০০ শতাংশ পাশ করাব, কথা দিলাম। তার জন্য সব চেষ্টা আমি করছি।

বেলাবো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, আমরা মাদ্রাসায় চিঠি পাঠাব, এই অবস্থা কেন হলো। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এই বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে এবং কীভাবে উত্তরণ করা হবে, তা জানাতে ডাকা হবে। তারা কী বলে, আমরা শুনব। তারপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .