ইউএনওকে কুপানোর হুমকি ছাত্রদল নেতার, ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকা প্রণয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের একাধিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) কুপানোর হুমকির একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ান তালুকদার।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, ঘটনার দিনই বিকালে থানায় জিডি করা হয়েছে। হুমকির একাধিক ভিডিও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে। এখন বাকি আইনি পদক্ষেপ পুলিশ নেবে।
এদিকে কোনো জিডি করা হয়নি দাবি করে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, ভিডিও আমরাও সংগ্রহ করেছি। তারাও দিয়েছেন কিন্তু কোনো জিডি করা হয়নি। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে।
এ বিষয়ে জানতে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চেয়ে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে হুমকির ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. রেদুয়ান তালুকদার ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চান। ফেসবুকে তিনি লেখেন- ‘আইন সবার ঊর্ধ্বে, আইন সমাজকে রক্ষা করে! অপরাধ কমায় এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করে।’
এ সময় তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রিয় দেশবাসী। গত ১৩ তারিখ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী আপুর সঙ্গে আমরা বা আমাদের পক্ষ থেকে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থী। আমাদের কোনো আচরণ বা কর্মকাণ্ডের কারণে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকলে তার জন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব। পাশাপাশি আমি কথা দিচ্ছি সরকার ও প্রশাসনের জনকল্যাণমূলক সব কর্মকাণ্ডে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্। আশা করি আমাদের ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’
এর আগে তিনি একই বক্তব্য একাধিকবার নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতার নাম। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। গত ১৩ আগস্ট তারা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তখন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ইউএনও কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে তারা বিক্ষোভ করেন ও ইউএনওকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় একটি ভিডিওতে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ান তালুকদারকে বলতে শোনা যায় ‘তোরে কুপাইমু’। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চান। এতে অনেকেই তার প্রশংসাও করেন।

-6a81d49ac3e4c.jpg)