পাংশায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত
Advertisement
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর পাংশায় মোটর চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার ভোররাতে উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের সুরাই বিশ্বাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
পাংশা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের রাইস মিলের মোটর চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা জজ আলীকে আটক করে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পাংশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জজ আলী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তার ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবামাঝাইল গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মারামারি চলে আসছিল। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের পক্ষের জামিন বিশ্বাস নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই হত্যা মামলার অভিযুক্তরা মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফেরেন। মিজানের অভিযোগ, এর জেরেই কৌশলে তার চাচাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যার বিচার দাবি করেন।
নিহত জজ আলী বিশ্বাসের স্ত্রী শাহেলা বেগম বলেন, ‘আরিফ নামে একজন আমার স্বামীর পরিচিত ছিলেন। তিনি ফোন করে ডেকেছিলেন বলে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়।’ তিনি জানান, তার স্বামী কৃষিকাজ করতেন।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার ভোর ৫টার দিকে আমি ঘটনাটি জানতে পারি। যিনি ফোন করেছিলেন, তাকে বলেছিলাম, মারধর করবেন না, আমরা আসছি। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আমরা দ্রুত তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
