ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড
Advertisement
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে তাকে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন।
সাজাপ্রাপ্ত মো. হানিফ শেখ (৫১) রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
সাজাপ্রাপ্ত কবিরাজ হানিফ শেখের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামে। এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁক ও কথিত কবিরাজি চিকিৎসা দিতেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ওই কিশোরীকে হানিফ শেখের কাছে নিয়ে যান স্বজনরা। পরদিন আবার চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরী পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পরিবার। ওই বছরের ২৪ মার্চ কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় হানিফ শেখকেই একমাত্র আসামি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের পর বলেন, চিকিৎসার নামে একজন কিশোরীর সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ মামলায় আদালতের দেওয়া সাজা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আদালতে আসামির অনুপস্থিতির কারণে রায় কার্যকর করতে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
