ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, সেই নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুস গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বদলির এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাসেল মোল্লা নামের এক বাহরাইন প্রবাসীর কাছ থেকে খবিরুল আলমের টাকা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মোহাম্মদ জালালুর রহমান তাকে শোকজ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) তিনি শোকজের জবাব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওইদিনই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করেন।
এ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) যুগান্তরে ‘আমার ওপর তো আপনি বেজার না, গোয়ালন্দে নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল’— শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম মোবাইলে বলেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।
রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের শোকজের জবাবসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান বাহরাইন প্রবাসী উপজেলার উজানচরের বাসিন্দা রাসেল মোল্লা। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম কাজ করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় অনেক কাকুতি-মিনতি করে তাকে দুই হাজার টাকা দেন। এ সময় কৌশলে ধারণ করা টাকা প্রদানের ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেন।
বাহরাইন প্রবাসী রাসেল মোল্লা বলেন, আমি ব্রেন টিউমারে অসুস্থ ছিলাম। নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলার পরও তিনি নানা অজুহাতে আমাকে তিন-চারদিন অফিসে ঘুরান। পরে টাকা দেওয়ার পর তিনি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড করে দেন।
তিনি বলেন, শুধু আমি নই, এ অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে অফিসের অন্যরাও দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকটি কম্পিউটারের দোকানদার জড়িত। এদের হাতে টাকা দিলেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়া, আইডি কার্ডে নামের ভুল বানান সংশোধন করা, পিতা ও মাতার নাম সংশোধন করাসহ যাবতীয় কাজ খুব সহজে হয়ে যায়। একেকটি কাজে তারা সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

-6aabe2342d388.jpg)