শিশু কলি হত্যা: অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন জনতা
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন জনতা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনায় চাঞ্চল্যকর শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন উত্তেজিত গ্রামবাসী।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা মূল অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে চড়াও হয়ে হাতুড়ি, শাবল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে দ্বিতল বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বিকাল ৩টা থেকে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ এসে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে অন্যদেরও হাতুড়ি ও শাবল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়ির মূল গেট ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। ক্ষুব্ধ জনতা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন। এ সময় শত শত নারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং ফাঁসির দাবি জানান।
বিক্ষুব্ধ জনতার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল- প্রশাসন যদি এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না করে, তবে যেন অপরাধীদের তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন থাকলেও গ্রামবাসীর বিশাল জনস্রোতের তুলনায় সংখ্যায় কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামের স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি বাড়ি থেকে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
সেই সময় শিশুটিকে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে লাশ ঘরে লুকিয়ে রেখে ঘাতক মোস্তফা ও তার সহযোগীও নিখোঁজের সন্ধান করার নাটক করেছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে কলির সন্ধানের দাবিতে যে মানববন্ধন হয় খুনি মোস্তফাও সেই মানববন্ধনে অংশ নেন।
নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে কলির বস্তাবন্দি টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলির লাশ উদ্ধারের পর তার পিতা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপরই প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল এবং তাদের ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার বর্ণনা দেন। তারা জানান, কলিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল (৫৫) ও মোস্তফার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২৫) পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে বস্তায় নিথর দেহটি ভরতে গিয়ে তারা আটকে যায়। পরে দুই পা ধারাল অস্ত্র দিয়ে শরীর থেকে আলাদা করে বস্তায় ভরা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে কলির লাশ বস্তায় ভরা অবস্থায় ঘরেই রাখে খুনিরা; কিন্তু লাশে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ালে বস্তাভর্তি লাশ দূরে কোথাও ফেলতে যান; কিন্তু বাড়ির কিছুদূর পর্যন্ত গেলে তারা কুকুরের আক্রমণের শিকার হন এবং তড়িঘড়ি করে পাশের ডোবায় ফেলে দেন। এরপর তারা স্যাভলন দিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেন। লাশ উদ্ধারের পর অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ মোস্তফার ঘরে গেলে স্যাভলনের গন্ধ পান এবং তখনই সন্দেহজনকভাবে প্রথমে মোস্তফা এবং পরে ইয়াছিনকে আটক করে। এদিকে দুই আসামিকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন।
