ইয়াবা ‘নাটক’ সাজিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ, ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
Advertisement
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে যাওয়ার পথে একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপ-পরিদর্শক মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমান।
রাফিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তার ভাই ইউনুস মিয়া ও ইউনুস মিয়ার মেয়ে জাসমিন আক্তার।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ছায়েদ মিয়া, ইউনুস মিয়া ও জাসমিন আক্তার একটি মামলায় আদালতে হাজিরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। তারা উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তাদের তল্লাশির নামে পকেটে জোর করে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে শত শত এলাকাবাসী চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরে স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বিরা থানায় গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ আদালতে চলমান। আদালতে যাওয়ার সময় তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যদি সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটবে না।

