কক্সবাজারে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: মীর শাহে আলম
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার ২ নম্বর ও ৪ নম্বর এক্সটেনশন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের মীর শাহে আলম বলেন, ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও হাটবাজারসহ মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার ভাষ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে চীনের উইমীম নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। আর গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
উখিয়ার সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র সম্পর্কে সাংবাদিকদের মীর শাহে আলম বলেন, কেন্দ্রটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব। প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা হাতে নিলেই একটি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালতের আদেশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে বারবার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন যেন বিকশিত হতে না পারে, সে জন্য বিভিন্নভাবে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যের পরিমাণও বাড়ছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
