টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর
জাল স্বাক্ষরে কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জাল করে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তাদের অভিযোগ, ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সূত্রে যায়, ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নিজের ও নিকটাত্মীয়দের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে স্থানান্তর করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার করা হয়েছে। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরমে থাকা স্বাক্ষর তার ও তার আত্মীয়দের কারও নয়। অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এসব কাজ করেছে।
একইভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটারকে তাদের অজান্তেই অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে তিনি জানতে পারেন, কুতুবপুরের পরিবর্তে তার ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুনা গ্রামে দেখানো হয়েছে। পরে বাবার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করেও একই ঠিকানা দেখতে পান। তার বাবা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
জুয়েল আরও বলেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চাচা সাবেক কাউন্সিলরসহ পরিবারের মোট ৯ জনের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।
একই গ্রামের ভুক্তভোগী নূরুল আমীন বলেন, আমার নামে বিদ্যুতের মিটার না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিদ্যুৎ মিটারের কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। আমার সব ভুয়া কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়ে এমন কাজ করা হয়েছে।
সাবেক কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, আমাকেসহ কয়েকজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জয়েন বলেন, আমি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। আমিসহ এই ওয়ার্ডের যারা কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অফিসে আসার আহ্বান জানিয়েছি। অতি শিগগিরই তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে।
