এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
বন্দর থানা। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে এবং তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।
মাকসুদ হোসেনের পরিবারের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে তার অনুসারী বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তবে, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কাউসার আশা।
বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের দাবি, সেখানে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, কিন্তু পুলিশ পরে গিয়ে তা সামাল দিয়েছে।
যদিও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের স্ত্রী নার্গিস মাকসুদের অভিযোগ, আবুল কাউসার আশা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।
নার্গিস মাকসুদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনীতে যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানাতে সকালে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে বিএনপির লোকজন অবস্থান নেয়। শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে দলবল নিয়ে তিনি হামলা চালান। এ সময় বাধা দিলে তাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকেও মারধর করে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন বলেও অভিযোগ নার্গিসের।
তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন, পাশের একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রতিপক্ষের লোকজন জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে আমি একটি আধুনিক জিমনেসিয়ামও গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু হুমকির মুখে মালামাল সরিয়ে ফেলেছি। জমিটি দখলে নিতে দখলদারদের পক্ষ হয়ে এমপির ছেলে ও তার লোকজন হামলা চালিয়েছে।
মাকসুদ হোসেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অংশ নিয়ে দলীয় পদ হারান। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুলও।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কালামের বিপরীতে সংসদ সদস্য প্রার্থী হন মাকসুদ হোসেন। স্বতন্ত্র এ প্রার্থী যদিও পরাজিত হন। ওই নির্বাচনের পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এমপিপুত্র আবুল কাউসার আশার বিরোধ চলছে বলে জানান স্থানীয়রা।
মাকসুদের ছেলে শুভর অভিযোগ, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে তাদের রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে হয়রানি করছেন বিএনপির লোকজন। হামলার পেছনেও ওই বিরোধ কাজ করেছে বলে ধারণা তার।
আবুল কাউসার আশা নিজেও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর।
তবে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কাউসার আশা বলেন, আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে লাঙ্গলবন্দ গিয়েছিলাম। আমি আমার ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তার পর চলে এসেছি। বাচ্চা কোলে নিয়ে আমি কিভাবে হামলা চালালাম। পরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, হামলার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

