বাঁচতে চান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অর্ঘ্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
সত্যব্রত ঘোষ অর্ঘ্য। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় বই-খাতা হাতে শ্রেণিকক্ষে ছুটে যেত ছেলেটি। অন্য সহপাঠীদের মতো চোখজুড়ে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। ভেটেরিনারি চিকিৎসক হয়ে প্রাণীর সেবা করবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
এখন সেই চোখেই নেমে এসেছে অন্ধকার। ক্যানসারের থাবায় একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়েছে। অন্য চোখটিও প্রায় ৯০ শতাংশ অন্ধকারে। নিজের পায়ে হাঁটতেও কষ্ট হয়। কাউকে ধরে হাঁটতে হয়, কখনো আবার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিতে হয় খাবার। তবু বাঁচার আকুতি থামেনি তরুণ সত্যব্রত ঘোষ অর্ঘ্যের।
সত্যব্রত ঘোষ অর্ঘ্য গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মানিকগঞ্জ ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকও তিনি।
কয়েক সপ্তাহ আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন অর্ঘ্য। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট সাইনো-ন্যাজাল ক্যানসার ধরা পড়ার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তার জীবন।
এরই মধ্যে একটি চোখে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আগামী ৫ অক্টোবর পরবর্তী কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
দেশে ইতোমধ্যে অর্ঘ্যের চিকিৎসায় প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একের পর এক চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটির সঞ্চয় প্রায় শেষ। এখন বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অর্ঘ্যের বাবা সুপ্রিয় ঘোষ লাভলু শিবালয় উপজেলার দশচিড়া গ্রামের বাসিন্দা। সুপ্রিয় ঘোষ লাভলু স্থানীয় টেড়া বাজারে ছোট একটি ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করেন। একমাত্র ছেলের অসুস্থতার পর ব্যবসা ফেলে দিন-রাত ছুটছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ব্যবসাটিও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করেও ছেলেকে সুস্থ করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সামনে যে চিকিৎসার ব্যয়, তা একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
তবু স্বপ্ন দেখতে ছাড়েননি অর্ঘ্য। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান তিনি। ফিরে যেতে চান বন্ধুদের আড্ডায়, ক্যাম্পাসের পরিচিত সেই জীবনে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের চোখের আলোটুকু ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ। অর্ঘের পরিবার ও সহপাঠীদের আকুতি, অর্থের অভাবে যেন একটি সম্ভাবনাময় জীবন থেমে না যায়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সহপাঠী, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ মানবিক মানুষের সহযোগিতা পেলে তার উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট-বড় যেকোনো সহযোগিতাই এখন অর্ঘের জন্য হয়ে উঠতে পারে বাঁচার নতুন আশার আলো।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা: সুপ্রিয় ঘোষ, হিসাব নম্বর: ১০৮২৩৭৭৭১০০০১, ব্র্যাক ব্যাংক, শিবালয় সাব-শাখা, মানিকগঞ্জ।
