ইউরোপে পাঠানোর নামে অফিস খুলে প্রতারণা দম্পতির, এখন প্রতিবেশী দেশে তারা
Advertisement
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘জিসান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন এক দম্পতি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খুলনায় কার্যালয় স্থাপন করে সার্বিয়া ও ডেনমার্কে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
আস্থা অর্জনের কৌশল হিসেবে ভুয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র এবং নকল ভিসার কাগজপত্র দেওয়া হতো। এমনকি চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে প্রশিক্ষণের নামে সাজানো কার্যক্রমও পরিচালনা করতেন তারা। এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার অন্তত অর্ধশত তরুণ সর্বস্ব হারিয়েছেন।
ওই প্রতারকের নাম মোহাম্মদ ফিরোজ রাশেদ ওরফে জিসান। তার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞায়। প্রধান সহযোগী হিসাবে জড়িত ছিলেন তার স্ত্রী শিলা খানম। তারা খুলনা নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে ডাচ-বাংলা ভবনের উপরে অফিস খুলে প্রতারণা করেন। গত ৭ আগস্ট ওই দম্পতি সেই অফিস গুটিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।
নগরীর নতুন রাস্তা এলাকার বাসিন্দা ও প্রাইভেটকার চালক আরমান জানান, ‘খুব কম সময়ে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তিতে জিসানের স্ত্রী শিলা নতুন রাস্তা মোড়ে এসে আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যান। পরে আমাদের হাতে যে ভিসা ও ম্যানপাওয়ারের কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়, তা পুরোটাই ভুয়া ও জাল প্রমাণিত হয়।’ আরেক ভুক্তভোগী হাসানুর রহমান বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে প্রায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমাদের সার্বিয়ার জাল ভিসা ও এয়ার টিকিট দেওয়া হয়। ফ্লাইটের আগের দিন তারা পালিয়েছেন। পরে ঢাকায় গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে খুলনায় ফিরে আসি। এসে শুনি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৫০ যুবকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে কেটে পড়েছে এই দম্পতি।
শেখপাড়ার বাসিন্দা কুমকুম বেগম জানান, আমার বাসার পাশেই ওদের অফিস ছিল। বিশ্বাস করে স্বামীকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ডেনমার্ক পাঠানোর চুক্তি করি। কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জিসানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জিসান ইতোমধ্যে ভারতে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী শিলা খানম ৭ আগস্ট অবৈধ পথে ভারতে পালানোর সময় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে আটক হন। তার বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জিসান দালালদের মাধ্যমে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তবে আটক হন তার স্ত্রী শিলা। পরে স্থানীয় নেতা ও পুলিশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাড়া পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। একাধিকবার জিসান ও শিলার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম পান্না জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি আমলী আদালতে জিসান ও শিলার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি এজাহার হিসাবে নেওয়ার জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে জিসান ট্রাভেলসের মালিক দম্পতির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

