সকালে নিখোঁজ, দুপুরে শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
Advertisement
ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সোয়াইফ হোসেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন নামের সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশুর গলাকাটা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
সোয়াইফ হোসেন ওই এলাকার সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান। অভিযুক্ত পাশের বাড়ির আবু আলম শিকদার ও রাছেল শিকদার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সোয়াইফ। এরপর স্বজনরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান মেলেনি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবু আলেম শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আলী আকবরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আলী আকবর শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করে পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝগড়াঝাটি হয়। সেই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে হত্যা শেষে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয় আলী আকবরের পরিবার।
সেলিম সরদার বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আকবরের ঝগড়া হয়। আমার মা রাতে আমাকে বিষয়টি জানায়। আজ সকালে আমি বাজারে গেলে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। আমি থানায় গিয়ে জিডি করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। যারাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

-6ac0f51163ab1.jpg)