এআইয়ের যুগে কারিকুলাম প্রযুক্তিভিত্তিক করতেই হবে: ড. সায়মা
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
তিন দিনব্যাপী ‘কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার’ সমাপনী দিনে প্যানেল আলোচনা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে কারিকুলাম অবশ্যই প্রযুক্তিভিত্তিক করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
তিনি বলেন, কারিকুলাম তৈরির সময় একাডেমিয়া ও ব্যবহারিক খাতের মধ্যকার ব্যবধান ঘোচাতে হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউন হলে তিন দিনব্যাপী ‘কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার’ সমাপনী দিনে প্যানেল আলোচক হিসেবে ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে তিন দিন ক্লাশরুমে পাঠদান এবং বাকি তিন দিন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে কাজের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে পড়াশোনা শেষ করার আগেই শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
মেলার সমাপনী উপলক্ষে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক এ গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এটি সঞ্চালনা করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও পুরোনো কারিকুলাম দিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব। বেকারত্ব দূর করে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ বা শিল্প সংযোগ জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. মো. শাখাওয়াত আলী বলেন, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি খুব দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়। তিন বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে প্রযুক্তির ইতিহাস শেখানো গেলেও বর্তমান প্রযুক্তির প্রয়োগ শেখানো অসম্ভব। তাই শুধু সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষার বিস্তার না ঘটিয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই নজর দিতে হবে।
সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, দক্ষতার অমিলের (স্কিল মিসম্যাচ) কারণেই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি (স্কিল বেজড এডুকেশন) চালু না করলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়।
সমাপনী বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, টেকনিক্যাল ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রির মধ্যকার কৃত্রিম ব্যবধান দূর করতে হবে। বেসরকারি খাতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, বরং প্রার্থীর প্রায়োগিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই কর্মসংস্থানের মূল মাপকাঠি।
