শেষ বয়সে নিজের বাড়িতেই পরবাসী মা, মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যিনি সারা জীবন অন্যদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, জীবনের শেষ বেলায় এসে তাকে লড়তে হচ্ছে নিজের বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের জন্য। নিজেরই তিল তিল করে গড়া বাড়িতে তিনি আজ বড়ই অসহায়।
সম্পত্তির লোভে যে মেয়ে তার কাছ থেকে প্রতারণা করে সব লিখে নিয়েছেন, তিনিই এখন দিচ্ছেন না খাবার ও ওষুধের খরচ। উল্টো জুটছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এভাবেই নিজের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন।
তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় দুই মেয়েকে আঁকড়ে ধরেই ছিল তার বাঁচার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ তার জন্য চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রহিমা খাতুন জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে প্রতারণার মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকায় ৭ শতক জমিসহ ৫ তলা বাড়িটি নিজের নামে লিখে নেন তার বড় মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি।
বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, সম্পত্তি পুরোপুরি হাতে পাওয়ার পর থেকেই মেয়ের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। গত ৫-৬ বছর ধরে তিনি মাকে কোনো প্রকার খাবার, ওষুধ বা বেঁচে থাকার ন্যূনতম খরচ দিচ্ছেন না। নগরীর ভাটিকাশর এলাকার ওই ভবনের একটি অংশে রহিমা খাতুন বসবাস করলেও বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া রয়েছে; কিন্তু ভাড়া বাবদ যে টাকা পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই নিয়ে যায় বড় মেয়ে।
টাকার অভাবে জীবন চালাতে এখন চরম হিমশিম খাচ্ছেন রহিমা খাতুন। বয়সজনিত নানা জটিল রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে তার ওষুধ কেনা হয় না। ভরণপোষণ চাইলে মেয়ে খারাপ আচরণ করে। বৃদ্ধা মায়ের পক্ষ নিয়ে কেউ কথা বলতে গেলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয় এবং দেওয়া হয় নানা হুমকি। এ অবস্থায় জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে কাটানোর জন্য প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়া বাড়িটি উদ্ধার ও নিজের ভরণপোষণের আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
তবে মায়ের এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বড় মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মায়ের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি ঢাকায় বসবাস করি। ওই বাড়ির ভাড়া বাবদ যে ৬০ হাজার টাকা পাই, তা থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা আমরা দুই বোন মিলে নিই।
তিনি আরও বলেন, মাকে ফোন করলে তিনি ভালোভাবে কথা বলেন না। যে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ খুব কম করা হয়। মূলত মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করে যাচ্ছেন।
