Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

চুনারুঘাট থানায়

১২ দিনে কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

Advertisement

Icon

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

১২ দিনে কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ফাইল ছবি

Advertisement

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ১২ দিনের ব্যবধানে চার সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল রয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুস গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুস নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতনু বণিককে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকেও থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুসের টাকা দিয়ে, ঘুস খাওয়ার জন্যই।’

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গেলে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন ওই বক্তব্য দেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি তার বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়ার (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চুনারুঘাট থানার চার পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগের পর প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘুস গ্রহণ, মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা এবং পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় থানার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যেভাবে পালিয়ে গেলেন পিচ্চি রাজা, দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে

যেভাবে পালিয়ে গেলেন পিচ্চি রাজা, দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে

‘তোদের জান কালাকালা করি দিমু দাঁড়া’— পুলিশকে সাবেক শিবির নেতা

‘তোদের জান কালাকালা করি দিমু দাঁড়া’— পুলিশকে সাবেক শিবির নেতা

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

ঘুসের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই অতনু ক্লোজড

ঘুসের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই অতনু ক্লোজড

শয্যাশায়ী বাবাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ

শয্যাশায়ী বাবাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ

ইলিয়াসের পর একই থানার এএসআই অতনুর ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ইলিয়াসের পর একই থানার এএসআই অতনুর ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

আরও পড়ুন

চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

১২ দিনে কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

রামেবিতে জোর করে ভিসির পদত্যাগের ঘটনায় মামলা, বিএনপি নেতা গ্রেফতার

রামেবিতে জোর করে ভিসির পদত্যাগের ঘটনায় মামলা, বিএনপি নেতা গ্রেফতার

‘দেশ নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই’

‘দেশ নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই’

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম