শতবর্ষেও থামেনি সমসু মিয়ার মানবসেবা, বিনা পয়সায় খুঁড়েছেন শত কবর
Advertisement
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
বৃদ্ধ সমসু মিয়া। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স তার ১১০ বছর। শরীর নুয়ে পড়েছে। চলাফেরা করেন লাঠিতে ভর দিয়ে। তবুও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর সেবার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন মানুষের শেষ বিদায়ের সঙ্গী হয়ে। বিনা পারিশ্রমিকে খুঁড়েছেন শত মানুষের কবর। তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া।
কারও মৃত্যুর খবর এলেই কোদাল-শাবল হাতে ছুটে যেতেন সমসু মিয়া। রোদ-বৃষ্টি কিংবা শীত—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। কোনো টাকা-পয়সার আশা ছিল না। ছিল শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় তিনি বছরের পর বছর এই কাজ করে গেছেন।
শিবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তিনি ছিলেন মানুষের ভরসা। কোনো বাড়িতে মৃত্যুর খবর এলেই ডাক পড়ত তার। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন। কবরের জায়গা নির্ধারণ করতেন। নিজ হাতে মাটি কাটতেন। নীরবে সম্পন্ন করতেন এই কঠিন দায়িত্ব।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, সমসু মিয়া শুধু নিজেই কবর খনন করেননি, অনেক তরুণকেও শিখিয়েছেন কিভাবে নিয়ম মেনে কবর খুঁড়তে হয়। তার কাছে এই কাজ ছিল না কোনো পেশা, ছিল মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার প্রকাশ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে শরীরের শক্তি। ১১০ বছর বয়সে এখন আর আগের মতো শক্ত মাটি কাটতে পারেন না। তবুও কারও মৃত্যু হলে ছুটে যান। নিজে কবর খুঁড়তে না পারলেও পাশে থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
শারীরিক দুর্বলতা তাকে পুরোপুরি থামাতে পারেনি। লাঠিতে ভর দিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দূরের মসজিদে গিয়ে এখনো জামাতে নামাজ আদায় করেন তিনি।
সমসু মিয়ার কাছে মৃত্যু জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার বিশ্বাস, একদিন সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মানুষের শেষযাত্রায় পাশে থাকতে পারাটাই তার জীবনের বড় তৃপ্তি।
শিবপুর গ্রামের সাংবাদিক সাব্বির হাসান জানান, গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া আজ শুধু একজন শতবর্ষী মানুষ নন। তিনি নিঃস্বার্থ সেবা ও পরোপকারের এক জীবন্ত উদাহরণ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তার নেই কোনো বড়াই। নেই কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা।
মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। আর সেই কবর খুঁড়েই জীবনের বড় একটি অংশ কাটিয়ে দিয়েছেন সমসু মিয়া নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে। তার এই মানবসেবা শিবপুর গ্রামের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে দীর্ঘদিন।

-6ac9f7db746ab.jpg)