চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়ি-দোকানে হামলা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
Advertisement
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর বদলগাছীতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রবাস ফেরত এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এই হামলায় টাকা ও দোকানের মালামালসহ প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না বলেও অভিযোগ তার।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁয়ের ৫ নম্বর আমলি আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান কেটু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার কানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২২ সালে দেশে ফেরেন। পরে নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে এর একটি অংশে কীটনাশকের ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের সময় থেকেই আব্দুল জলিল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় জাহাঙ্গীরের কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জমিতে কৃষিকাজ ও কীটনাশক প্রয়োগেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের দোকানের এক কর্মচারী মোটরসাইকেলে পণ্য কিনতে গেলে চকনদীকূল (মোহনপুর) বাজার এলাকায় তাকে আটকে দেন আসামিরা। এ সময় মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চাঁদার টাকা দেওয়ার জন্য তাকে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীরের ছেলে এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে ক্যাশবাক্সের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ক্যাশবাক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। হামলাকারীরা বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুরও চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা এজাহার অনুযায়ী, দোকান থেকে কুইন প্লাসের তিন কার্টন, নীল প্লাসের পাঁচ কার্টন, জেনিলাসের তিন কার্টন, জেনিজেলের পাঁচ কার্টন এবং সিলেকশনের এক কার্টন কীটনাশক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য যথাক্রমে এক লাখ, ৬০ হাজার, ৪০ হাজার, এক লাখ ও ১০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া চারটি জানালা ভাঙচুরে এক লাখ টাকা, দোকানের শাটারে ৬০ হাজার টাকা, তিনটি র্যাক বা সেলফে এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য মালামালে আরও এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাশবাক্সের ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাত লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন জাহাঙ্গীর।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা, আবুল কালাম ও বনি জানান, ২০ থেকে ৩০ জনের মতো লোকের সামনে জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাদের দাবি। ঘটনার পর থেকে ভয়ে জাহাঙ্গীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হামলার সময় ফোন পেয়ে বদলগাছী থানার এসআই কুদ্দুস ঘটনাস্থলে আসেন এবং আমাকে ও আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। এরপর থেকে আসামিদের ভয়ে বাড়ি ও দোকানে যেতে পারছি না। প্রায় এক মাস ধরে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জানমালের নিরাপত্তা চাই।
মামলার পাঁচ নম্বর আসামি সাহাদ আলী হামলার কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, আমার চাচাকে তার বাড়ির ছাদ থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়েছিল। এ কারণে আমরা হামলা চালিয়েছি। তবে দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগ সত্য নয়।’
মোটরসাইকেল আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি তাদের কাছে ছিল; পরে একজন পুলিশ এসে সেটি নিয়ে যান।’
অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল জলিল তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ফল জানা না যাওয়ায় ঘটনার সব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
