ট্রাকপ্রতি ২-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়
চট্টগ্রাম সাইলো থেকে চাঁদা ছাড়া বের হতে পারছে না গমবাহী ট্রাক
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের বৃহৎ সাইলো থেকে সরকারি গমবাহী ট্রাক বের হতে দিচ্ছে না সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ট্রাক মালিক সমিতির নামে ট্রাকপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করছে।
টাকা না দিলে ট্রাক আটকে দেওয়া হচ্ছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে সরকারি ভি-ইনভয়েস ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং চালক ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের মারধর করা হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কাছে খাদ্য পরিবহণকাজে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে খাদ্য বিভাগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে।
ভয়ে পরিবহণ ঠিকাদাররা প্রকাশ্যে নাম বলতে না চাইলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেদের সরকারি দলের লোক পরিচয় দিয়ে জসিম ও হাশেম ওরফে বল্লার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম সাইলোর গেটে চাঁদাবাজি চলে এলেও সম্প্রতি তা চরম আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সাইলো থেকে বের হওয়া একাধিক গমবাহী ট্রাক জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। এরপর রোববার থেকে চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং চাঁদা ছাড়া সাইলো থেকে কোনো গাড়ি বের হতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
পরিবহণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, লোকাল প্রোগ্রামের জন্য অর্থাৎ সাইলো থেকে হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোতে (সিএসডি) যাওয়ার ট্রাকগুলো থেকে ২ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাওয়ার ট্রাক থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
রোববার সকাল থেকে গেটে অবস্থান নিয়ে পাহারায় বসে সন্ত্রাসীরা। সকাল ৯টায় লোড করা গমের গাড়ি দুপুর ১টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে গাড়ি বের করেন।
রোববার দুপুরে পতেঙ্গার সরকারি সাইলো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভাগীয় খাদ্য পরিবহণ সমিতির ঠিকাদার (ডিআরটিসি) ও আন্তঃজেলা খাদ্য পরিবহণ ঠিকাদারদের (আইআরটিসি) সরকারি গমবোঝাই ট্রাকগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ডিআরটিসির পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স আরেফিন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, রোববার সকাল ৯টায় রাঙামাটি সদরে যাওয়ার জন্য ট্রাকে গম লোড করে বসে আছি। চাঁদাবাজদের ভয়ে গাড়ি বের করতে পারছি না। তারা বলছে, আমরা নাকি সরকারি গম গুদামে না নিয়ে বাইরে বিক্রি করে দিই, তাই টাকা ছাড়া গাড়ি বের হতে দেবে না। সাইলো থেকে কোনো গাড়ি বের হলে মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু নেয় এবং চালককে মারধর করে সরকারি ভি-ইনভয়েস কেড়ে নেয়।
পতেঙ্গায় অবস্থিত ১ লাখ ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই সাইলোটি দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য সংরক্ষণাগার। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ৬০ থেকে ১০০টি ট্রাকে করে সারা দেশে এবং পার্বত্য তিন জেলায় সরকারি গম সরবরাহ করা হয়।
চট্টগ্রাম সাইলোর সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী মো. সাকিবুল হাসান শিশির যুগান্তরকে বলেন, সকাল থেকে গমবাহী ট্রাক বাইরে যেতে পারেনি। ঘটনাগুলো সাইলোর সীমানার বাইরে ঘটছে, তাই এখানে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি সহায়তা নিতে পারেন।
পতেঙ্গা থানার ওসি মো. পারভেজ আলী যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না, এইমাত্র জানলাম। সাইলো কর্তৃপক্ষ বা পরিবহণ ঠিকাদাররা থানায় যোগাযোগ করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজদের ভয়ে সরকারি খাদ্যশস্যবাহী গাড়ি বের হতে পারবে না—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
