ফরিদপুরে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর নামে সারের ডিলারশিপ
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একই পরিবারের শাশুড়ি ও পুত্রবধূর নামে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলায় ১৩ জনের একটি ডিলারশিপ তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবেদনকারী অন্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তথ্য গোপন করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিতরা।
জানা গেছে, প্রকাশিত তালিকায় ৯ নম্বর ঘারুয়া ইউনিয়নের শরীফাবাদ বাজারে মেসার্স বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজের সুমাইয়া আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অথচ তার শাশুড়ি শিউলি আক্তারের নামে আগে থেকেই আরেকটি সারের ডিলারশিপ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা বাজারে বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে কাদের বিশ্বাস ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কয়েক বছর আগে তার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটির ডিলারশিপ স্ত্রী মোছা. শিউলি আক্তারের নামে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের বাকপুরা বাজার এলাকার সেই ডিলারশিপের ব্যবসা ভাঙ্গা বাজার থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন শিউলি আক্তারের বড় ছেলে পলাশ বিশ্বাস।
এদিকে চলতি বছর নতুন সারের ডিলারশিপের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে ঘারুয়া ইউনিয়ন থেকে শিউলি আক্তারের মেজো ছেলে পিয়াস বিশ্বাসের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের নামে আবেদন করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৩ জনের তালিকায় ঘারুয়া ইউনিয়নের শরীফাবাদ বাজারের জন্য সুমাইয়া আক্তারের নাম চূড়ান্ত ডিলার হিসেবে প্রকাশ পায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক লাখ টাকা বাণিজ্যের বিনিময়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
শরীফাবাদ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, সুমাইয়া আক্তার কখনো ব্যবসা করেননি। শুধু একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, এমনকি তিনি এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাও নন। সরকারি নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, এক পরিবারের কারও নামে ডিলারশিপ থাকলে ওই পরিবারের অন্য কেউ আবেদন করতে পারবেন না। অথচ মোটা অঙ্কের সুবিধার বিনিময়ে তদন্ত কর্মকর্তা তার নাম তালিকায় রেখেছেন।
ডিলারশিপ পরিচালনাকারী অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, কাদের বিশ্বাসের স্ত্রী শিউলি আক্তারের নামে আগে থেকেই ডিলার রয়েছে। এখন তার পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তারকেও ডিলার দেওয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি বেআইনি।
এ বিষয়ে শিউলি আক্তারের বড় ছেলে পলাশ বিশ্বাস বলেন, মায়ের নামে থাকা ডিলারশিপটি আমরা পারিবারিকভাবে পরিচালনা করছি। আর সুমাইয়া আক্তার আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা আলাদা খায়, তাদের সংসার ভিন্ন।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তালিকায় নাম কিভাবে এসেছে তা কমিটি ভালো বলতে পারবে। তবে আমার মনে হয়, আলাদা হাঁড়ি বা খানায় খেলে তাদের একই পরিবার ধরা যায় না।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, একই পরিবারের দুজন ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ পেলে তা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, একই পরিবারের একজন ডিলার থাকা অবস্থায় আরেকজনের নাম কিভাবে এলো, তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই এক পরিবারের দুজন ডিলার হতে পারবেন না। নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটলে তা অবশ্যই বাতিল করা হবে।
