পদ্মায় বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
পদ্মায় বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু। শনিবার দুপুরের পর থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি দেবে গিয়ে ভাঙতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো সেতুটি নদীতে প্রায় বিলীন হয়ে যায়।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেতুটি ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিইডির উদ্যোগে ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৪ মিটার। এই সেতু দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন।
সেতুটির পূর্ব পাড়ে মানিকগঞ্জ অংশে পদ্মা নদীর মূল ধারা এবং পশ্চিম দিকে ফরিদপুর অংশ দিয়ে পদ্মার আরেকটি শাখা প্রবাহিত হচ্ছিল। দুটি ধারার মাঝখানের চর এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, এলাকায় দুই মাস আগে থেকে নদীভাঙন শুরু হলেও গত ১৫ দিনে তা তীব্র আকার ধারণ করে। গত চার দিন ধরে সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়ক ভাঙনে বিলীন হতে থাকে এবং শনিবার সেতুটির মূল অংশ নদীতে ধসে পড়ে।
তিনি আরও জানান, গত দুই মাসের ভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামে ৫০টি বসতবাড়িসহ মোট ২৫০টি পরিবারের বসতভিটা ও অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে দেবে গেছে। সেতুটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙনের তীব্রতায় তা কোনো কাজে আসেনি।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, কবিরপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, সেতু রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু ভাঙন চলছিল অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ফলে বর্ষার তীব্র স্রোতের মধ্যে সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ৩৫ বছরে ওই এলাকায় এমন ভাঙন দেখা যায়নি। নদী ভাঙতে ভাঙতে তার পুরোনো প্রবাহের দিকে ফিরে আসছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুর দুই পাশেই পদ্মার দুটি ধারা রয়েছে এবং দুটি ধারাতেই তীব্র ভাঙন চলছে। নদী ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং ভাঙন চলছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে। এ পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দল এনে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
