বুদ্ধিমত্তায় ছিনতাইকারী চক্রের হাত থেকে বাঁচলেন পর্বতারোহী বাবর
Advertisement
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাতঃভ্রমণ করতে গিয়ে নিজ বুদ্ধিমত্তায় ছিনতাইকারীর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বুড়িশ্চর গ্রামের বাসিন্দা এভারেস্ট ও মাকালুজয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. বাবরের এভারেস্ট অভিযানের সমন্বয়ক ফরহান জামান। তবে এ ঘটনায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ করেননি।
এর আগে একই দিন সকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট (কল্পলোক আবাসিক এলাকা সংলগ্ন) এলাকায় সাইকেল চালানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় ডা. বাবর আলী ও তার সঙ্গী ইরফান সাইকেল নিয়ে ঘুরতে যান। সেখানে নদীর পাড়ে তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই তিনজন আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী দলটি তাদের পিছু নিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কালবিলম্ব না করে দ্রুত সাইকেল চালিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান বাবর ও ইরফান। তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার কারণে তারা কোনো মালামাল না হারিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী তার ফেসবুক আইডিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি সতর্কতামূলক বার্তা পোস্ট করেন।
ওই পোস্টটি রাসেল করিম নামে এক ব্যক্তি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে লেখেন- ‘ডা. বাবর আলীর মতো মানুষকে এ দেশের প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে? চট্টগ্রামে এমন অনেক এলাকা আছে যেগুলো দিনেও চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়। সেদিন আমার এক পরিচিত ভাই পোস্ট দিয়ে জানালেন চান্দগাঁও আবাসিকের ভেতর ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। সবাই সাবধানে থাকবেন এবং পারলে সবাই মিলে এদের প্রতিহত করুন।’
পেশায় চিকিৎসক এবং প্রকৃতিপ্রেমী বাবর আলী নিয়মিত সাইক্লিং ও ম্যারাথনে অংশ নেন। নগরীর পরিচিত এলাকায় দিনের শুরুতেই একজন এভারেস্ট ও মাকালুজয়ীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগরীর বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
