২৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
২৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নিজ কার্যালয়ে টানা ২৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।
টানা ২৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ চলছিল। এসব দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুর থেকেই উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের মূল ফটক আটকে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি একাধিকবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। রাতভর কার্যালয়ের ভেতরেই বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয় উপাচার্যকে।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে মঙ্গলবার বিকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন এবং তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপাচার্যকে তার কার্যালয় থেকে বের করে একটি গাড়িতে তুলে ক্যাম্পাস পার করে দেন। উপাচার্যকে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন চারপাশ।
সোমবার রাতভর প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।
চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।
পরে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ভেতরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।


