ডিএনএ টেস্টে ফাঁসলেন নারী, মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় কারাগারে
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে এক ব্যক্তিকে কারাভোগ করানোর দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় মামলাটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
মঙ্গলবার বিকালে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। ওই মামলায় তিনি নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন।
পরবর্তীতে লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর পিতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিন শিশুটির জৈবিক পিতা নন বলে প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত তাকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেন।
পরবর্তীকালে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে অহেতুক কারাভোগ করানোর প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন।
