সুযোগ পেলে নেত্রকোনার মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে সাফল্য পাবে: জিন্নাত
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এশিয়ান গেমসে উশুতে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী নেত্রকোনার মেয়ে জিন্নাত আক্তার বলেছেন, আমাদের সময়ে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা তেমন ছিল না। তবে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের একটু অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিলে নেত্রকোনার মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য বড় সুনাম বয়ে আনতে পারবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জিন্নাত।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
জিন্নাত আক্তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কৃতী উশু অ্যাথলেট। জাপানে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন তিনি। তার এ অভাবনীয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে পদক জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা। নির্ধারিত ওজনসীমা পূরণ করতে না পারায় ইন্দোনেশিয়ার সেই প্রতিযোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত করেন সাতবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জিন্নাত।
নেত্রকোনা পৌর শহরের খতিবনগুয়া এলাকার সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন জিন্নাত আক্তার। তার বাবা প্রয়াত আরজ আলী ও মা রওশনা আক্তার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিন্নাতের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে আনন্দ ও গর্বে ভাসছে তার পরিবার এবং পুরো জেলাবাসী।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. হেদায়েত উল্লাহ রুমিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন রিপন, জেলা উশু প্রশিক্ষক নাদিম আহম্মেদ, স্থানীয় উশু খেলোয়াড়রা এবং জিন্নাতের মাসহ পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমস থেকে ব্রোঞ্জপদক নিয়ে দেশে ফেরেন জিন্নাত। তখন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও উশু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। জিন্নাতের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
