ডিগ্রি ছাড়াই ক্যানসার-কিডনি-ডায়াবেটিসসহ জটিল রোগের চিকিৎসা
Advertisement
বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ওই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতি ও শারীরিক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ‘খাকি ন্যাচারোপ্যাথিক কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানের রশিদ আহমেদ খাকির বিরুদ্ধে নিবন্ধন ছাড়া ক্যানসার, কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এসব জটিল রোগের চিকিৎসার প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তার চেম্বারে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তার চেম্বার ও চিকিৎসা কার্যক্রম।
উপজেলার আসমা ব্রিজের পাশে দুলাল মিয়ার বাসায় অবস্থিত ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করেন বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম।
এদিকে, ওই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতি ও শারীরিক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেএন কেয়ার (খাকি ন্যাচারোপ্যাথিক কেয়ার) নামের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রশিদ আহমেদ খাকির সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে চিকিৎসক ও পরামর্শক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্যানসার, কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা, নিবন্ধন ও আইনগত অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রশিদ আহমেদ খাকি তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মিরপুরে বলে পরিচয় দিতেন। তার বাড়ি হবিগঞ্জে এবং তিনি বেশির ভাগ সময় নেত্রকোনায় অবস্থান করতেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বারহাট্টার আসমা গ্রামের জালাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বুঝিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়। কিন্তু সেই ওষুধ সেবনে তার স্ত্রী কোনো উপকার পাননি; বরং শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
কৈলাটি গ্রামের মো. বাবুল মিয়া বলেন, আমি ব্যথার চিকিৎসা করাতে গেলে তিনি আমার পুরো শরীর পরীক্ষা করে ওষুধ দেন। ওষুধ খাওয়ার পর আমার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। পরে টাকা ফেরত চাইলে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। এই চিকিৎসক তো মানুষ মেরে ফেলবেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রশিদ আহমেদ খাকি বলেন, আমি ওই রোগীকে এক হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। এটা তার প্রতি আমরা এহসান করেছি। কিন্তু চ্যালেঞ্জ করলে তিনি আমার কিছুই করতে পারবেন না।
স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে তার কাছে নিয়ে আসার অভিযোগ অস্বীকার করে রশিদ আহমেদ খাকি বলেন, আমরা কোনো দালাল ব্যবহার করি না, রোগীরা এমনিতেই আসে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আসমা ব্রিজের পাশে একটি চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিবন্ধিত চিকিৎসক না হয়েও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি, চেম্বারটি বন্ধ করে এর কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

-6aca321e8e6c3.jpg)