দুই পদে নিয়োগে ঘুস ৩০ লাখ টাকা, আরেক পদে বিনিময় হয় জমি
Advertisement
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসায় তিনটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন ও জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অফিস সহায়ক পদে উমর মজিদ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের ছেলে সুমনকে ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ল্যাব সহকারী পদে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সাদেকুর রহমানের কাছ থেকে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান। তার দাবি, নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই তিনটি পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসাটিতে অফিস সহায়ক, ল্যাব সহকারী (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগে ৭ জুলাই এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। পরে ১৩ জুলাই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে পালটা মানববন্ধন করেন মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জমিদাতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও আবেদন গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা অধ্যক্ষের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং পরে মাদরাসায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তাদের অভিযোগ, তিনটি পদের বিপরীতে মাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থীকে দেখানো হয়।
গত ৭ জুলাই এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে মাইদুল, রোস্তম, মোতালেব, রুবেল ও শামসুন্নাহার বেগমসহ স্থানীয়রা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থ বা জমির বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
মাদরাসাসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রোস্তম আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যারা শ্রম ও মেধা দিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ বা উপঢৌকনের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জমিদাতা প্রয়াত আব্দুল জব্বারের নাতি আতিকুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খবর পেয়ে আবেদন করতে গেলে অধ্যক্ষ আমাকে জানান, আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ১৩ জুলাই মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পালটা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য, এসব অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে। মাদরাসায় স্বাভাবিক পাঠদান ও কার্যক্রম চলছে এবং নিয়ম মেনেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়োগের সময় মাদরাসার তৎকালীন সভাপতি আতাউর রহমান বকসী বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কথা কয়েকজন তাকে জানিয়েছেন। বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়। তার দাবি, ২০ শতাংশ জমি তিনি নিজের অর্থ দিয়ে কিনেছেন।
অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজারহাট উপজেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6aca32bae9a4a.jpg)