প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে পোকা
Advertisement
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বনরুটির ভেতরে পোকা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে থানাহাট ২নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া টিফিনের রুটিতে পোকা পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খাবারের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা পরিবেশনের জোর দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অধীনে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বনরুটি, কলা ও ডিম বিতরণ করে আসছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামের একটি উন্নয়ন সংস্থা। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৯৩টি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে প্রতিদিন মোট ১২ হাজার ২৪৮টি বনরুটি সরবরাহ করে গাইবান্ধাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা জিইউকে।
বৃহস্পতিবার থানাহাট ২নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিনের জন্য বরাদ্দকৃত বনরুটি বিতরণের সময় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিতরণ করা একটি বনরুটির প্যাকেট খোলার পরই ভেতরে স্পষ্ট পোকা নড়াচড়া করতে দেখে শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং খাবার বিতরণে দায়িত্বরতদের কাছে তাৎক্ষণিক মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী এনজিও প্রতিনিধিরা পোকাযুক্ত বনরুটিটি তড়িঘড়ি ফেরত নিয়ে যান।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার মতো এমন দায়িত্বহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা জানান, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান আগে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে প্রায়ই বিভিন্ন অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উপজেলা সমন্বয়কারী মোছা. মাহফুজা বেগম সুইটি বলেন, হুট করে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই রুটিটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
থানাহাট ২নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বনরুটির ভেতরে পোকা দেখা গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসে রুটিটি নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বনরুটির ভেতরে পোকা থাকার খবরটি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষককে সব রুটি ফেরত দিতে বলেছি। এছাড়া খাবার নষ্ট ও পোকাযুক্ত থাকায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হবে না বলে বিলে স্পষ্টভাবে লিখে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
