বিক্ষোভের মুখে জনসম্মুখে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের পদত্যাগ
Advertisement
কুড়িগ্রাম ও রাজারহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় চার পদে নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে জনসম্মুখে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তারা এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বর্তমান পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করা এবং ভবিষ্যতে কমিটিতে বর্তমান সদস্যদের না রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজনের দাবিও তোলেন তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মাদ্রাসার টিআর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাজুর ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তাদের তোপের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।
কর্মসূচিতে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাশের হার মাত্র ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, প্রশ্নফাঁস বন্ধ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কর্মসূচি, শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতে প্রতি বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানান বক্তারা।
সাবেক ছাত্র সালমান ফারসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. দুলাল সরকারসহ স্থানীয় নেতারা।
এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্য পদত্যাগ করা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, আমি কয়েক দিন আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু কমিটি তা গ্রহণ করেনি। এবার এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সামনেই আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছি।
অন্যদিকে পদত্যাগের ঘটনাটি ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সুখদেব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়েছে। কথিত পদত্যাগপত্রটি এখনও আমার হাতে পৌঁছায়নি। মাদ্রাসার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। সোমবার ইউএনও সভা ডেকেছেন, সেখানেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সার্বিক বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তসনজিলা তাসনিম বলেন, মাদ্রাসার বিশৃঙ্খলা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে সোমবার ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও বিক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
