নাচ-গানের কথা বলে ডেকে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ
Advertisement
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নাচ-গানের কথা বলে ডেকে এনে এক তরুণীকে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মিঠু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া রশিদ মোড় এলাকায় জিম্মি দশা থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় চায়ের আড্ডার দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নাচ-গানসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেখানে নাচ-গানের কথা বলে তিন তরুণীকে ভাড়া করে আনা হয়।
পরবর্তীতে তিন তরুণীর মধ্যে দুইজন চলে গেলেও ভুক্তভোগী তরুণীর কাছে থাকা ৫ হাজার ৬শ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে এক সপ্তাহ ধরে আটকে রেখে মোখলেছুর রহমান মিঠু, নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে বাড়ি ফেরার মতো টাকা না থাকায় ভুক্তভোগী তরুণী অভিযুক্তদের কাছে টাকা চাইতে বৃহস্পতিবার নলেয়া রশিদ মোড়ে যান। সেখানে টাকা দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর ও থানায় খবর দিলে ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার মোখলেছুর রহমান মিঠু ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নলেয়া রশিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা। মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন—নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর। তারা সবাই ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। তিনি এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
